শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩০ পূর্বাহ্ন
আহমেদ আকবর, সিলেট:
সিলেটের প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নানা অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনগড়া ডিউটি শিডিউল, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং দালালদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ ও অসহায় রোগীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, সরকারিভাবে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও নির্ধারিত খাবার পাওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের বাইরে থেকে টাকা দিয়ে খাবার কিনতে হচ্ছে। তাদের দাবি, হাসপাতালে রোগীদের জন্য দুই বেলা পর্যাপ্ত ও মানসম্মত খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা থাকলেও খাবার বিতরণ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের কারণে অনেক রোগী সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের পরিস্থিতি নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। শয্যাসংকটের কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি বেডে একাধিক শিশুকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রোগীর স্বজনরা। এতে শিশুদের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।
এদিকে, পুরো হাসপাতালজুড়ে একটি সক্রিয় দালাল চক্র কাজ করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ বা প্রশ্রয়ে দালালরা বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘোরাফেরা করে রোগী ও তাদের স্বজনদের বিভ্রান্ত করে অর্থ আদায় করছে।
হাসপাতালের কিছু ওয়ার্ডবয়ের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ করেছেন রোগীর স্বজনরা। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা বা ‘বকশিশ’ না দিলে অনেক সময় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া যায় না। ট্রলি আনা-নেওয়া থেকে শুরু করে রোগীদের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতার ক্ষেত্রেও টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের ডেলিভারি বা প্রসূতি ওয়ার্ডকে কেন্দ্র করে। ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রসূতি মায়েদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ওষুধ লিখে দেওয়া হয়। ডেলিভারি সম্পন্ন হওয়ার পর অব্যবহৃত বা অতিরিক্ত ওষুধ রোগীদের কাছে ফেরত না দিয়ে সেগুলো অন্যত্র বিক্রির অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সরকারি এই হাসপাতালে স্বল্প খরচে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার কথা থাকলেও পদে পদে সাধারণ ও দরিদ্র মানুষকে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
তারা এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, হাসপাতাল প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।